রাতে ঘুমের আগে যে মারাত্নক ভূল করে শেষ করে দিচ্ছেন নিজেকে!

ঘুম শরীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ঘুম না হলে ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ি আমরা। ঘুমের মধ্যে শরীরের সব অঙ্গ নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করে। ভালো ঘুম না হলে অনেক ধরনের রোগ তৈরি হয়, মানসিক চাপও বাড়ে। কাজেই ঘুম নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। আর নির্ঝঞ্ঝাট ঘুমের জন্য রয়েছে কিছু টিপস। ঘুমের আগে কিছু জিনিস করবেন না, তাহলে দুই চোখজুড়ে ঘুম আসবে আপনার।

তর্ক-বিতর্ক: ঘুমানোর আগে যদি কারো সাথে যুক্তিতর্কে লিপ্ত হন তখন আপনার মন নানা চিন্তায় পূর্ণ হয়ে যায়। যুক্তির পিঠে পাল্টা যুক্তি আপনার ভাবনায় আসতেই থাকবে। এটি আপনার ঘুমকে ব্যাহত করবে। গবেষকরা বলেন, ঘুমের আগে কারো সঙ্গে ঝগড়া করলে, এর রেশ রয়ে যায় পরেরদিন ভোর পর্যন্ত। পুরো রাত নিশ্চিন্ত ঘুমকে নিশ্চিত করতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে কোনো তর্কবিতর্ক নয়, কেমন?

আগ্রহ জাগায় এমন বই: ঘুমানোর আগে বই বা উপন্যাস পড়লে ঘুম তাড়াতাড়ি আসে। তবে এ সময় কোনো উৎসুক বা জানার আগ্রহ হয় এমন গল্পের বই পড়তে যাবেন না। এর ফলে আপনি বইটি পড়তেই থাকবেন আর এতে আপনার ঘুমের সময় চলে যাবে। তখন ঘুম সহজে ধরা দেবে না চোখে। ব্যায়াম করবেন না: ব্যায়াম শরীরকে স্বাস্থ্যকর ও সুঠাম রাখে। তবে ঘুমের আগে ব্যায়াম করলে ঘুম ব্যাহত হবে। ব্যায়ামের ফলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং এটা ঘুমের অসুবিধা করে। তাই ঘুমের আগে শরীরচর্চা নয়।

ইন্টারনেট ব্রাউজ করা: ঘুমের আগে ল্যাপটপ চালানো বা টিভি দেখা ঘুমের আবেশকে নষ্ট করে দেয়। টিভির স্ক্রিন থেকে যে আলো আসে সেটা ঘুম তৈরির হরমোন মেলাটোনিনের নিঃসরণকে কমিয়ে দেয়। সব ধরনের স্ক্রিনের আলো এমনকি মোবাইল ফোনের আলোও এড়িয়ে চলুন। বিছানায় বসেও কাজ নয়: ঘুমাতে যাওয়ার আগে যেকোনো ধরনের অফিসের কাজ মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। এটা মানসিক চাপ তৈরি করে এবং ঘুমকে ব্যাহত করে। কাজেই বিছানায় যাবেন ঘুমোতেই, কাজ করে ঘুমাবেন এমন চিন্তা করবেন না।

শিশুদের সঙ্গে খেলা: ঘুমানোর আগে শিশুর সঙ্গে খেলতে যাবেন না। এটা শিশু এবং আপনার উভয়ের ঘুমই নষ্ট করবে। মস্তিষ্ককে শেখাতে হবে খেলার সময় খেলা, ঘুমের সময় ঘুম। চা-কফি খাবেন না: চা-কফি বা যে কোনো ক্যাফেইন-জাতীয় খাবার ঘুমানোর আগে এড়িয়ে চলুন। এগুলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। গরম পানির গোসল: গরম পানির গোসল শরীরের তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। এটি ঘুম তাড়িয়ে দেয়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘুমের আগে গরম পানি দিয়ে গোসল করতে যাবেন না।

বেশি খাবেন না: রাতের খাবারে বেশি খাওয়া অনেক সময় ভীতিকর স্বপ্নের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এটি ঘুমকে ব্যাহত করবে। আবার অস্বাস্থ্যকর খাবার আপনাকে দুঃস্বপ্নও দেখাতে পারে। পেটে গণ্ডগোল থাকলে ঘুম তো নষ্ট হবেই। তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুম ভালো হওয়ার জন্য রাতে স্বাস্থ্যকর হালকা খাবার খান। দুশ্চিন্তা বাদ দিন: যেকোনো ধরনের দুশ্চিন্তা মানসিক চাপ বাড়ায়। সারা দিন কী করলেন, না করলেন এগুলো চিন্তা করতে যাবেন না। যদি কোনো চিন্তার কারণ থাকে সেগুলো একটি নোট প্যাডে লিখে রাখুন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই পদ্ধতি চিন্তা থেকে কিছুটা অব্যাহতি দেয় এবং ঘুমাতে সাহায্য করে।